সাবমেরিন সিরিজ ১: নিউক্লিয়ার সাবমেরিন (Nuclear Submarine

সাবমেরিন সিরিজ ১: নিউক্লিয়ার সাবমেরিন (Nuclear Submarine)



নিউক্লিয়ার সাবমেরিন হলো এমন ডুবোজাহাজ যা তার ভিতরের নিউক্লিয়ার রিয়্যাকটরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তিতে চলে। অনেকেরই মনে ভূল ধারনা আছে যে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মানেই হলো পারমানবিক বোমাবাহী ডুবোজাহাজ। কিন্তু আসলে নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে পারমানবিক বোমা বা মিজাইল থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। নিউক্লিয়ার সাবমেরিন অন্য ডিজেলচালিত সাবমেরিন থেকে আয়তনে বড় হয় (সাধারনত ৫০০০ টনের উপরে)। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে একনাগারে সাগরে থাকতে পারে, ছোটগুলারও ৫ বছরের আগে জ্বালানী শেষ হয় না। এগুলোর গতিবেগও বেশি।

প্রথম নিউক্লিয়ার সাবমেরিন হলো আমেরিকার তৈরি USS Nautilus (SSN-571) এটাক সাবমেরিন। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্যের কাছেই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন আছে।

USS Nautilus

USS Nautilus

এখন নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের শ্রেণীবিভাগ নিয়ে আলোচনা করবো। এখানে এই শেণীবিভাগ করা হয়েছে মূলত সাবমেরিনের অস্ত্র বা বোমার উপর ভিত্তি করে।



এটাক সাবমেরিনঃ

এই প্রজাতিকে হান্টার/কিলার সাবমেরিনও বলে। এর মূল কাজ পানিতে অন্য জাহাজ বা সাবমেরিন ধ্বংশ করা। এই রকমের সাবমেরিনই সবচেয়ে বেশি। নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মধ্যে সাইজে এগুলাই ছোট, বর্তমানে ৫০০০-১০০০০ টন। আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চীন সবার কাছেই এই সাবমেরিন আছে। আগে এই সাবমেরিনে অস্ত্র হিসেবে মূলতঃ টর্পেডো ও মাইন থাকতো। বর্তমানে এটাক সাবমেরিনে টর্পেডো ও মাইনের পাশাপাশি ক্রজ মিজাইল, এন্টি শিপ মিজাইল এবং এন্টি এয়ারক্রাফট মিজাইলও থাকে। যেমন রাশিয়ান Akula class submarine,আমেরিকান Los Angeles class submarine, ব্রিটিশ Trafalgar class submarine, ফ্রেন্চ Rubis class , চিনা Han-class।





  • Akula class submarine

    Akula class submarine





  • Los Angeles class submarine

    Los Angeles class submarine





  • Trafalgar class submarine

    Trafalgar class submarine


    ব্যালিস্টিক মিজাইল সাবমেরিনঃ

    এই সাবমেরিনের মূল কাজ পারমানবিক বোমাবাহী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিজাইল বহন করা। এছারা নিরাপত্তার জন্য টর্পেডো ও অন্যান্য অস্ত্রও থাকে। মিজাইলের রেন্জ ৩০০০ থেকে ১২০০০ কিমি পযন্ত আছে। আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চীন সবার কাছেই এই সাবমেরিন আছে। তবে সংখ্যায় ব্যাপক তারতম্য আছে। সকল সাবমেরিনের মধ্যে এগুলোই সবচেয়ে বড়। যেমন আমেরিকান Ohio class submarine, রাশিয়ান Delta IV class, Typhoon class submarine (সবচেয়ে বড়), ব্রিটিশ Vanguard Class Submarine ইত্যাদি।





  • Ohio class submarine

    Ohio class submarine




  • Typhoon class submarine

    Typhoon class submarine


    গাইডেড মিজাইল সাবমেরিনঃ

    এই সাবমেরিনের মূল কাজ গাইডেড ক্রুজ বা ব্যালিস্টিক মিজাইল বহন করা। এছারা নিরাপত্তার জন্য টর্পেডো ও অন্যান্য অস্ত্রও থাকে।এগুলো সুধুই আমেরিকা - রাশিয়ার আছে। তাও ২ দেশের গাইডেড মিজাইল সাবমেরিনে পার্থক্য আছে। রাশিয়ার Oscar class submarine ই একমাত্র সাবমেরিন যা গাইডেড মিজাইল সাবমেরিন হিসেবে তৈরি হয়েছে। এগুলোতে ছোট সাইজের পারমানবিক বোমাও থাকে যার মূল টার্গেট আমেরিকান বিমানবাহী জাহাজ।

    Oscar class submarine

    Oscar class submarine





  • অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা তার ১৮ Ohio class ব্যালিস্টিক মিজাইল সাবমেরিন থেকে ৪ টাকে গাইডেড মিজাইল সাবমেরিনে রুপান্তর করেছে যেগুলো বর্তমানে Tomahawk cruise missiles বহন করে।






  • সাবমেরিন সিরিজের আগামী পর্বে কোন দেশের কি কি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন কিরকম আছে তা নিয়ে আলোচনা করবো।

    মন্তব্যসমূহ

    এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

    ফাইটার বিমানের প্রকারভেদ

    একে-৪৭ এসল্ট রাইফেল (AK-47)

    এফ ১৫ ঈগল