একে-৪৭ এসল্ট রাইফেল (AK-47)

একে-৪৭ এসল্ট রাইফেল





একে-৪৭ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসল্ট রাইফেল হিসেবে এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় । এটা 7.62x39mm কার্টিজ ব্যাবহার করে। ১৯৪৭ সালে রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের) মিখাইল কালাশানিকভ এই রাইফেল তৈরি করেন বলে এর নাম হয়েছে AK-47 (Avtomat Kalashnikova 1947)। সোভিয়েত ইউনিয়নে এটা প্রথম সার্ভিসে আসে ১৯৪৯ সালে। তারপর থেকেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে এসল্ট রাইফেল হিসেবে AK-47 সিরিজ ও এর বিভিন্ন স্থানীয় সংস্করনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ভিয়েনাম যুদ্ধসহ অনেক যুদ্ধে ফলাফল নির্ধারনে এই রাইফেল ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।










এই এসল্ট রাইফেল এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার মূল কারন এর লক্ষভেদ নয় বরং অন্য কিছু বৈশিষ্ট। লক্ষভেদে এর থেকে ভাল অনেক রাইফেল আছে। কিন্তু AK সিরিজের রাইফেলের রিলায়েবলিটি  অত্যন্ত বেশি। এটা জ্যাম হয় না, ওভারহিটেড হয় না, পানিতে ভিজলে, স্যাতস্যাতে আবহাওয়ায় বা ধুলাবালিতে কিছু হয় না, অতি গরম বা অতি শীতল আবহাওয়াও ভালভাবে কাজ করে। বছরের পর বছর কোন যত্ন না নিলেও কাজ করে। এর জনপ্রিয়তার আরও কারন হচ্ছে এর সহজ ব্যবহার। এটা ব্যবহার করতে M16/G3 এর মত বিশেষ ট্রেনিং এর দরকার হয় না, রক্ষনাবেক্ষনে তেমন ঝামেলা নেই।

AKM with folding buttstock





গেরিলাদের জন্য একে-৪৭ সিরিজই সবচেয়ে আদর্শ। ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামী গেরিলারা বিশেষ সুবিধা পেয়েছে AK-47 এর কারনে। আমেরিকান সৈনিকদের অনেক M16 যুদ্ধে নষ্ট/ফেটে গিয়ে সমস্যা হয়েছে। আফগানিস্তানে রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমেরিকাই মিশরসহ বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে কিনে আফগান মুজাহেদিনদের দিয়েছে।

একে ৪৭  এর উৎপাদন ব্যায় কম ও গঠনপ্রণালী সহজ। এটা বড় কারখানায় ব্যাপকভাবেও তৈরি করা যায় আবার ক্ষুদ্র কারখানায় হাতে চালিত যন্ত্র দিয়েও তৈরি করা যায়। এ করনেও বিভিন্ন দেশ এটা ব্যবহার করে। একে-৪৭ তৈরির পর ওয়ারস জোটভূক্ত সকল দেশ ও চীন এটা তৈরি শুরু করে। এর চীনা নাম Type 56। এটাও ব্যপক প্রচলিত। পরবর্তিতে বিভিন্ন দেশ এর নিজস্ব ভার্সন তৈরি করেছে। অনেক ধনতন্ত্রিক দেশেও একে ৪৭ এর অনুকরনে রাইফেল তৈরি হয়েছে এ হচ্ছে। যেমন ফিনল্যান্ডের RK 62, RK 95 TP, সুইজার‌ল্যান্ডের SIG SG.540, SG.550। ইসরাইলও তাদের মূল  এসল্ট রাইফেল হিসেবে AK-47 এর অনুকরনে তৈরি IMI Galil ব্যবহার করে।

Type 56-1, Type 81, and Type 56


গাজিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স শুরু থেকেই
Type 56 তৈরি করে আসছে। এছারা বর্তমানে এরই চীনা উন্নত ভার্সন Type 81 তৈরি শুরু হয়েছে।


AKM with GP-25 40mm underbarrel grenade launcher



AK-74M with GP-30 40mm grenade launcher


AK-47 এর উন্নত ও হালকা ভার্সন AKM। পরবর্তীতে আরও উন্নত ও বুলেট পরিবর্তন করে 5.45x39mm করে তৈরি করা হয় AK-74 series। রাশিয়ান সৈন্যদের বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু AK-74M। এটাকেই পরিবর্তন করে বর্তমানে মূলত রপ্তানীর জন্য তৈরি হয়েছে
# AK-101 series
# AK-103/AK-104 series
# AK-107/AK-108 series

AK-103







AK-104







AK-47 সিরিজের রাইফেলে বিভিন্ন ধরনের টেলিস্কোপিক সাইট, বেয়নেট ও GP 25/30 গ্রেনেড লন্চার ব্যবহার করা যায়।

বিশদ বর্ননা

    * প্রস্তুতকারি দেশ:সোভিয়েত রাশিয়া
    * আবিষ্কারক:মিখাইল কালাশানিকভ
    * ডিজাইনের বছর:১৯৪৭
    * একশন: গ্যাস অপারেটেড
    * কার্টিজ:৭.৬২*৩৯ মিমি
    * রেট অফ ফায়ার:৬০০ রা/মিনিট
    * কার্যকর দুরত্ব:৩০০-৮০০ মিটার
    * ওজন:৪.৩ কেজি, AKM ৩.১৪ কেজি
    * দৈর্ঘ্য:৬৪৫/৮৭০ মিমি
    * ম্যাগাজিন: স্ট্যান্ডার্ড ৩০ রাউন্ড। এছারা ৪০/৭৫ (ড্রাম) ও ব্যবহার করা যায়।

পোস্ট পূর্বে আমারব্লগে প্রকাশিত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফাইটার বিমানের প্রকারভেদ

এফ ১৫ ঈগল