এফ ১৫ ঈগল


এফ ১৫ ঈগল (F-15 Eagle)


এফ ১৫ ঈগল আমেরিকার প্রধান এয়ার সুপিরিউরিটি ফাইটার। আকাশে ডগফাইটে অন্য বিমান ধ্বংশের জন্যই এই ফাইটার বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি শুধুই আকাশ যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অর্থাৎ ভুমিতে আক্রমন বা বোমা ফেলার জন্য এই বিমান ব্যাবহার হয়না। ভিয়েতনাম যু্দ্ধে আমেরিকার অভিজ্ঞতায় সোভিয়েত বিমান ধ্বংশের জন্য এই ফাইটার তৈরি হয়েছিল। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান McDonnell Douglas ও Boeing IDS।


১৯৭২ সালে এফ-১৫ ঈগল এর প্রথম প্রোটোটাইপ আকাশে ওড়ে। সার্ভিসে আসে ১৯৭৬ সালে। এটি আমেরিকার Fighter Experimental (F-X) প্রজেক্টের আওতায় তৈরি। এটি একটি বড় সাইজের হেভিওয়েট ফাইটার। এফ-১৫ এর পাশাপাশি এসময় লাইটওয়েট মাল্টিরোল ফাইটার হিসেবে এফ-১৬ তৈরি করা হয় এবং নেভির জন্য এফ-১৪  তৈরি করা হয়।

সোভিয়েত ইউনিয়ন মিগ ২৫ তৈরি করছে এই খবর পেয়েই আমেরিকা F-X প্রজেক্ট হতে নেয় ও মিগ ২৫, মিগ ২১ সহ তৎকালীন সকল সোভিয়েত ফাইটারকে আকাশে যুদ্ধে পরাজিত করার জন্যই এফ ১৫ ঈগল তৈরি করা হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আমেরিকা বুঝতে পারে ক্লোজ রেন্জ ডগফাইটের যুগ শেষ হয়নি এবং ম্যানুভারিটির গুরুত্বও কমেনি। কারন বেশি গতি, উন্নত রাডার ও সাইডউইন্ডারের মত লং রেন্জ মিজাইল থাকা পড়েও ভিয়েতনামী কম উন্নত ফাইটারের পাইলটদের কাছে আমেরিকানরা বিভিন্ন যায়গায় পরাজিত হচ্ছিলো। তাই এসব সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত ম্যানুভারেল করা হয় সাথে বেশি গতি, উন্নত রাডার সহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়। এফ ১৪ আর এফ ১৫ এর মাধ্যমেই জেট ফাইটারের ৪র্থ জেনারেশন শুরু হয়। 


এফ ১৫ ঈগল এ বেশকিছু উন্নত প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়। যেমন head-up display (HUD), উন্নত পালস ডপলার রাডার, ইনারশিয়াল গাইডেন্স সিস্টেম, ডিজিটাল কম্পিউটাইজড সিস্টেম ইত্যাদি। এর ক্লাইম্ব রেট ও টার্ণ রেট অনেক ভাল। এটি ২ ইন্জিন বিশিষ্ট। উচ্চতায় এর সর্বোচ্চ গতি শব্দের আড়াই গুণ বা ম্যাক ২.৫ বা ২৬৬০ কিমি/ঘন্টা যারা বর্তমানে সার্ভিসে থাকা আমেরিকান ফাইটারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।


এফ ১৫ ঈগল এর প্রথম বের হওয়া সংস্করনকে এফ ১৫ এ (সিঙ্গেল সিট) ও এফ ১৫ বি (ডাবল সিট ট্রেইনার) বলা হয়। এগুলোরই উন্নত সংষ্করন এফ ১৫ সি (সিঙ্গেল সিট) ও এফ ১৫ ডি (ডাবল সিট ট্রেইনার) বের হয় ১৯৭৮ সালে । আমেরিকা কাছে ৬০০ এর বেশি এফ ১৫ ঈগল আছে। আগে ভাবা হয়েছিল এফ ২২ র‌্যাপটর দিয়ে এফ ১৫ কে রিপ্লেস করা হবে। কিন্তু বিভিন্ন অন্তত ২০২৫ সাল পযন্ত এফ ১৫ আমেরিকার সার্ভিসে থাকবে।

আমেরিকার বাইরে ১৯৭৭ সালে ইসরাইল প্রথম এফ ১৫ ঈগল পায়। ইসরাইলই প্রথম এফ ১৫ ঈগলকে ব্যাবহার করে সিরিয়ার বিরুদ্ধে। সিরিয়ার মিগ ২১ ও মিগ ২৫ এর বিরুদ্ধে ইসরাইলি এফ ১৫ খুবই ভাল ফলাফল করে। ১৯৭৮-৮১ এর বর্ডার যুদ্ধে ও ১৯৮২ এর লেবানন যুদ্ধে ইসরাইল ৫০ টিরও বেশি সিরিয়ান ফাইটার ধ্বংশের দাবি করে যার বেশিরভাগ মিগ ২১ ও মিগ ২৩। সিরিয়ানরাও কিছু এফ ১৫ ধ্বংশের দাবী করে তবে ইসরাইল তা স্বীকার করেনি।


আমেরিকা ১৯৯১ এর উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের বিমানবাহিনী ধ্বংশে সফলভাবে এফ ১৫ ঈগল ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে এ যুদ্ধে অন্য কোন বিমান এফ ১৫ এর সমান সাফল্য পায়নি। আমেরিকাও সরাসরি ডগফাইটে কোন এফ ১৫ ধ্বংশ হওয়ার কথা স্বীকার করেনি। তবে গ্রাউন্ড ফায়ারে কিছু এফ ১৫ ধ্বংশ হওয়ার কথা শোনা যায়।

এছারা সৌদি আরব ও জাপানের এফ ১৫ ঈগল আছে।

এফ ১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle):



এফ ১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল, এফ ১৫ ঈগল এর ২ চালক বিশিষ্ট একটি বিশেষ ভার্সন। অনেকেই একে একটি আলাদা বিমান হিসেবে দেখে। এটি সর্ভিসে আসে ১৯৮৮ সালে। এফ ১৫ ঈগল গ্রাউন্ড এ্যাটাকের জন্য তৈরি না হলেও স্ট্রাইক ঈগল বিশেষভাবে  গ্রাউন্ড এ্যাটাকের জন্যই তৈরি। ১৯৯১ এর উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংশে এটিই মূল ভুমিকা পালন করে। উল্লেখ্য প্রথমে বিমানবাহী জাহাজ থেকে ওড়া এফ ১৮ দিয়ে ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংশের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বেশ কয়েকটি  এফ ১৮ ধ্বংশের পর ঐ চেষ্টা বাদ দেওয়া হয় ও এফ ১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল আসার পরই সাফল্য পাওয়া যায়। অবশ্য কয়েকটি স্ট্রাইক ঈগলও ধ্বংশ হয়।


এফ ১৫ ই স্ট্রাইক ঈগলও এফ ১৫ ঈগল মত সমান গতিসম্পন্ন ও অত্যন্ত ম্যানুভারেল। আমেরিকার বর্তমানে ২২২ টি স্ট্রাইক ঈগল আছে। এছারা  স্ট্রাইক ঈগলের অন্য ব্যবহারকারীরা হলো: Israel (F-15I) ২৫ টি, South Korea (F-15K) ৩৯+ (৬১ টির অর্ডার), Saudi Arabia (F-15S) ৭২ টি, and Singapore (F-15SG) ২৪টি।

বিশদ বিবরন (এফ ১৫ সি ঈগল):


বৈমানিক : ১ বা ২ জন
দৈর্ঘ্য: 19.43 m
উচ্চতা: 5.63 m
খালি অবস্হায় ওজন : ১২৭০০ কেজি
বোঝা ভরা অবস্হায় ওজন : ২০২০০কেজি
সর্বোচ্চ টেক অফ ওজন : ৩০৮৪৫ কেজি
শক্তির উৎস : ২টি Pratt & Whitney F100-229 আফটার বার্নিং টার্বো ফ্যান
সর্বোচ্চ গতি : উচ্চতায়-২৬৫০ কিঃমিঃ/ঘন্টা 
পাল্লা : ৫৫৫০ কিঃমিঃ (ফেরি)

অস্ত্রসমুহ:

১ টি ২০মিমি M61A1 gatling gun,(৯৪০ রাউন্ড)
এন্টি এয়ার ক্রাফট মিসাইল:
৪টি AIM-9L/M Sidewinder এবং
৪টি AIM-7F/M Sparrow missiles, অথবা
combination of AIM-9L/M, AIM-7-F/M and AIM-120 missiles.

পূর্বে আমারব্লগে প্রকাশিত







 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফাইটার বিমানের প্রকারভেদ

একে-৪৭ এসল্ট রাইফেল (AK-47)