ইউরোফাইটার টাইফুন

ফাইটার সিরিজ ৫: ইউরোফাইটার টাইফুন





ইউরোফাইটার টাইফুন বিশ্বে নতুন বের হওয়া অত্যাধুনিক ফাইটারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ইংল্যান্ড, জার্মানী, ইতালী ও স্পেনের একটি যৌথ প্রজেক্ট। এটা বিশ্বের ২য় দামী ফাইটার বটে। ইউরোফাইটার টাইফুন একটি মাল্টিরোল ফাইটার। তবে একে মূলত এয়ার টু এয়ার এ্যটাকের জন্যই অপ্টিমাইজ করা হয়েছে সাথে সেকেন্ডারি এয়ার টু গ্রাউন্ড এ্যটাক ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে।






Official Eurofighter logo


১৯৮৩ সালে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানী, ইতালী ও স্পেন Future European Fighter Aircraft (FEFA) নামে একটি যৌথ প্রজেক্ট চালু করে।  কিন্তু ফ্রান্সের চাহিদার সাথে অন্যদের চাহিদা না মেলায় এবং ফ্রান্সের লিডিং রোল দাবি করায় অন্যদের সাথে ফ্রান্সের মতবিরোধ হয় ও ফ্রান্স গ্রুপ থেকে বের নিজস্ব ACX Project চালু করে যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে Dassault Rafale ফাইটার তৈরি হয়েছে। যাইহোক ফ্রান্স সরে যাওয়ার পর অন্যরা ১৯৮৫ সালে Eurofighter প্রজেক্ট নতুনভাবে শুরু করে এবং ১৯৮৬ সালে  Eurofighter GmbH নামে কোম্পানী গঠন করা হয় যার প্রডাকশন শেয়ারের বন্টন ইংল্যান্ডের British Aerospace (33%), জার্মানীর DASA (33%), ইতালীর Aeritalia (21%) ও স্পেনের CASA (13%) । সদরদপ্তর স্থাপন করা হয় জার্মানীর মিউনিখে।



ইউরোফাইটারের প্রথম প্রোটোটাইপ আকাশে ওরে ১৯৯৪ সালে। প্রথম প্রডাকশন মডেল আসে ২০০৩ সালে এবং সেইথেকে ৪ দেশের সার্ভিসেও আসা শুরু হয়।



ইউরোপিয়ান ঐতিহ্য অনুসারে ইউরোফাইটার টাইফুন ডেল্টা উইং ডিজাইনের। এটি ২ ইন্জিন বিশিষ্ট। এতে উন্নত Glass cockpit ব্যাবহার হয়েছে। এর বডি তৈরিতে ব্যাবহার হয়েছে carbon-fibre composites, glass-reinforced plastic, aluminium lithium, titanium and aluminium casting। পাইলটের কন্টোল সিস্টেম voice throttle and stick system (VTAS)। এখানে ভয়েস কমান্ডের অপশন আছে যার সাহায্যে অনেক সেকেন্ডারী কাজ ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে করা যায়।


Eurofighter Typhoon সেমি স্টীল্থ বিমান। রাডারে ধরার জন্য অন্য বিমান থেকে বেশি কাছে আসতে হয়। এতে PIRATE প্যাসিভ রাডার আছে। যা আমেরিকান স্টীল্থ ফাইটার ধরতে পারবে।

এখন আসি পারফর্মেন্সের কথায়। ইউরোফাইটার টাইফুনের সর্বোচ্চ গতি উচ্চতায় ম্যাক 2+ বা 2,495 km/h। সী লেভেলে সর্বোচ্চ গতি Mach 1.2। রেন্জ ২৯০০ কিলোমিটার। এয়ার সুপিরিউরিট মিশনের জন্য ম্যানুভারিটির দিকে লক্ষ রাখা হয়েছে। যদিও Su-35 / 37 থেকে বেশি ম্যানুভারেল নয় তবে বর্তমানের অন্য বেশিরভার ফাইটার থেকে ম্যানুভারিটিতে দক্ষ। ইউরোফাইটার কোম্পনীর দাবি অনুযায়ী ইউরোফাইটার আমেরিকার F22 থেকে বেশি দক্ষ এবং যুদ্ধে F22 কে পরাজিত করতে পারবে। এর টার্ন রেট ও এঙ্গেল অফ এটাক ভাল।



ইউরোফাইটার টাইফুনে অস্ত্র হিসেবে আছে জার্মানীর Mauser BK-27 ২৭ মিলিমিটার কামান। এছারা ১৩ টি হার্ডপয়েন্টে ৭৫০০ কেজির অস্ত্র বহন করা যায়। এর মধ্যে আছে সর্ট রেন্জ / লং রেন্জ এন্টি এয়ারক্রাফট মিজাইল, এন্টি শিপ ক্রুজ মিজাইল এবং লেজার গাইডেড বোমা।

ভার্সনঃ
ইউরোফাইটার  সিঙ্গেল সিট, ডাবল সিচ দুইভাবেই হয়। ইউরোফাইটারের প্রডাকশনকে Tranche 1, 2, 3 এই ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। Tranche 1 প্রথম প্রডাকশন মডেল। মূলত এয়ার সুপিরিউরিট ফাইটার। Tranche 2 তে এয়ার টু গ্রাউন্ড এ্যটাক ব্যাবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং নতুন কম্পিউটার সিস্টেম লাগানো হচ্ছে। Tranche 3 ভবিষতে আসবে আপগ্রেড হয়ে।



অপারেটরঃ

ইংল্যান্ড: 49 (+183 on order)
জার্মানী: 40 (+140 on order)
ইতালী : 30 (+91 on order)
স্পেন: 19 (+68 on order)

এছারা এক্সপোর্ট কাষ্টোমারের মধ্যে-

অস্ট্রিয়া: 11 (+4 on order)
সৌদি আরব: 2 (+70 on order)

এক্সপোর্ট কাষ্টোমারের মধ্যে অস্ট্রিয়া ১৫ টা বিমানের অর্ডার দিয়েছে। সৌদি আরব ৬.৪ বিলিয়ন ইউরোতে ৭২ টা Tranche 2  বিমানের অর্ডার দিয়েছে। গ্রীস ৩০ টা ইউরোফাইটার  কিনতে চাচ্ছে। এছারা জাপান, তুরস্ক সহ আরও কিছু দেশ ইউরোফাইটারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের ১২৬ টা Multi-Role Combat Aircraft কেনার MRCA প্রতিযোগীতায় অন্য পাচটি ফাইটারের সাথে ইউরোফাইটারও অংশ নিয়েছে। এখানে ইউরোফাইটারের দাম রাখা হয়েছে ইউনিট প্রতি ১২২.৫ মিলিয়ন ডলার যা প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া অন্য ফাইটারের দামের দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এত দামে ভারত কিনবে বলে মনে হয় না।



বিশদ বিবরন
• বৈমানিক : ১ বা ২ জন
• দৈর্ঘ্য :১৫.৯৬ মিটার
• উচ্চতা : ৫.২৮ মিটার
• খালি অবস্হায় ওজন :১১০০০ কেজি
• বোঝা ভরা অবস্হায় ওজন :১৫৫৫০কেজি
• সর্বোচ্চ টেক অফ ওজন :২৩৫০০ কেজি
• শক্তির উৎস :২টি Eurojet EJ200 আফটার বার্নিং টার্বো ফ্যান
• সর্বোচ্চ গতি : উচ্চতায়-২৪৯৫ কিঃমিঃ/ঘন্টা(Mach 2+)
• সুপারক্রুজ : Mach 1.1-1.5
• পাল্লা :২৯০০ কিঃমিঃ (ফেরি)

অস্ত্রসমুহ

# Guns: 1× 27 mm Mauser BK-27 cannon with 150 rounds

# Hardpoints: Total of 13: 8× under-wing plus 5× under-fuselage pylon stations holding up to 16,500 lb (7,500 kg) of payload.

# Missiles:

    * Air-to-air missiles:
          o AIM-9 Sidewinder, AIM-132 ASRAAM, AIM-120 AMRAAM, IRIS-T and in the future MBDA Meteor
    * Air-to-surface missiles:
          o AGM-84 Harpoon, AGM-88 HARM, ALARM, Storm Shadow , Brimstone, Taurus KEPD 350, Penguin and in the future AGM Armiger

# Bombs: Paveway II/III/Enhanced Paveway series of Laser-guided bombs (LGBs), Joint Direct Attack Munition (JDAM), HOPE/HOSBO

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফাইটার বিমানের প্রকারভেদ

একে-৪৭ এসল্ট রাইফেল (AK-47)

এফ ১৫ ঈগল